প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৪, ২০২৬, ৫:৪৫ এ.এম
আর্জেন্টিনার নতুন চূড়ায় এমিলিয়ানো মার্তিনেজ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
আর্জেন্টাইন ফুটবলে তিনি কেবল একজন সাধারণ গোলরক্ষক নন, বরং গোলপোস্টের নিচে এক দুর্ভেদ্য ও অবিচল প্রাচীর। এবার তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক মাইলফলকের মুখোমুখি। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক হিসেবে এককভাবে শীর্ষে জায়গা করে নেবেন বিশ্বজয়ী তারকা এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্নের সোনালী ট্রফি এনে দেওয়ার পেছনের মূল নায়ক ছিলেন ‘দিবু’ নামে পরিচিত এই তারকা গোলরক্ষক। সেই আসরের অতিমানবীয় ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে তিনি স্পর্শ করেছিলেন ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি গোলরক্ষক উবালদো ফিয়োলের ঐতিহাসিক রেকর্ড। উবালদো ফিয়োল আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ১৯৮২ সালের তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে সর্বমোট ১৩টি ম্যাচ খেলে গোলপোস্ট সামলেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামার মাধ্যমে মার্তিনেজও নিজের ক্যারিয়ারের ১৩তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ফিয়োলের পাশে বসেন। এবার সেমিফাইনালে থ্রি লায়নসদের বিপক্ষে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফিয়োলকে পেছনে ফেলে তিনি হয়ে যাবেন এককভাবে এই রেকর্ডের অনন্য অধিকারী।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলরক্ষকদের ম্যাচ খেলার এই গৌরবময় তালিকাটি বেশ দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর। মার্তিনেজ ও ফিয়োলের ঠিক পরেই রয়েছেন সাবেক সফল গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। তিনি ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বমোট ১২টি ম্যাচ খেলেছিলেন। সেই রোমেরোকে ছাড়িয়ে গিয়ে মার্তিনেজ ইতোমধ্যেই নিজেকে দ্বিতীয় অবস্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং এবার তিনি এককভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে চূড়ায় আরোহণ করতে যাচ্ছেন। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে গোলপোস্ট সামলেছেন এমন গোলরক্ষকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন ভিন্ন গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে দাঁড়িয়েছেন। এই তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে রয়েছেন ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট তারকা নেরি পুম্পিদো, যিনি খেলেছেন মোট ৯টি ম্যাচ। এছাড়াও সার্জিও গোয়কোচেয়া এবং আন্তোনিও রোমা খেলেছেন ৬টি করে ম্যাচ। অন্যদিকে রোবের্তো আব্বোন্দানসিয়েরি ও দানিয়েল কার্নেভালি খেলেছেন ৫টি করে ম্যাচ।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এমন এক বিশেষ সময়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে চলেছেন, যখন তাকে ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে তুলনা করা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালসহ বিভিন্ন নকআউট ম্যাচে তার চোখধাঁধানো পেনাল্টি সেভ এবং মাঠে প্রতিপক্ষের স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতা তাকে ফিয়োল কিংবা পুম্পিদোর মতো কিংবদন্তিদের সমান্তরালে এনে দাঁড় করিয়েছে। আগামী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলগত জয়ের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের গভীর মনোযোগ থাকবে মার্তিনেজের এই রাজকীয় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার অনন্য মুহূর্তটির দিকে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more