প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৬, ২০২৬, ২:২৩ এ.এম
উচ্চশিক্ষায় বিশাল আসন শূন্যতার আশঙ্কা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সুযোগের বিপরীতে উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী কম ঢাকা: ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি আসন ফাঁকা থাকার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২২ বছরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাসের হারের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সহানুভূতির নম্বর প্রদান বন্ধ হওয়া, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং অতিরিক্ত মুখস্থ নির্ভরতার ফলে শিখন ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এবার মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষায় সর্বমোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। সে হিসাবে পাস করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ৮ লাখ বা ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আসন খালি থেকে যাবে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবছর উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী চাকরি, ব্যবসা, বিদেশগমন কিংবা বিয়ের মতো নানা কারণে ঝরে পড়ে। এই ঝরে পড়ার হার অব্যাহত থাকলে ফাঁকা আসনের সংখ্যা দাঁড়িয়ে যেতে পারে প্রায় ৯ লাখে। তবে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরীক্ষার ফল ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হলে উত্তীর্ণদের যুক্ত করে ফাঁকা আসনের চিত্র কিছুটা ইতিবাচক হতে পারে। তা সত্ত্বেও সামগ্রিক বিচারে বিপুল পরিমাণ আসন ফাঁকা থাকা প্রায় নিশ্চিত।
এদিকে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধা তালিকার কঠিন প্রতিযোগিতা বজায় থাকলেও নতুন বা তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে আসন পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে মাত্র ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসন রয়েছে, যা মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মাত্র ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিকেল কিংবা শীর্ষ কৃষি ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের মধ্যে তুমুল প্রতিযোগিতা হবে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ ও ১১৭টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ১৪ লাখেরও বেশি আসন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
জিপিএ প্রাপ্তির নিম্নমুখী হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সাধারণ যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে পারছে না, যা কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম শিথিলের আলোচনা উঠছে। তবে শিক্ষাবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আসন ফাঁকা রাখা ভালো হলেও ভর্তির শর্ত শিথিল করা অনুচিত। তাঁদের মতে, শিক্ষার গুণগত মানে আপস করে দুর্বল ভিত্তির শিক্ষার্থীদের সুযোগ দিলে তাতে শিক্ষার সামগ্রিক মান আরও ক্ষুণ্ণ হবে এবং কেবল 'সার্টিফিকেটধারী বেকার' সৃষ্টি বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে আসন্ন ভর্তি মৌসুমে একদিকে যেমন সীমিত আসনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধার লড়াই জমবে, অন্যদিকে সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র সংকটের মুখে আসন খালি থাকার অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে হতে পারে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more