প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ২:১৪ এ.এম
রামুর ঘটনার ১৪ বছর: ভাঙা বিশ্বাস জোড়া লাগেনি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সহিংসতার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও স্থানীয় ভুক্তভোগী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মন থেকে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার চাপ কাটে নি। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানো হয়েছিল রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতবাড়িতে। ঘটনার পর পোড়া মন্দির পুনর্নির্মাণ ও ভৌত কাঠামোর উন্নয়ন হলেও রামু ছাড়িয়ে সারাদেশে আজ অব্দি নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ব্যক্ত করছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার নিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তার কারণে স্থায়ীভাবে দেশত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
রামুর ঘটনার পর দীর্ঘদিন পার হলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় নেতা ও অ্যাক্টিভিস্টরা। রামুর ১৯টি বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে অন্তত ১২টিতে সেদিন হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী না করা এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ। বর্তমানে বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন থাকলেও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনায় কয়েকটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সহিংসতার সেই ভয়াল রাতে স্থানীয় কিছু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মানবিক ভূমিকার কথাও মনে রেখেছেন ভুক্তভোগীরা। সেদিন অনেকেই হামলাকারীদের রুখে দিয়ে প্রতিবেশী বৌদ্ধ পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় দেন এবং মন্দির রক্ষার চেষ্টা করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রবীণদের মতে, ঘটনার পর কেবল কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রীতি সভা করলেই মানুষের মন থেকে মূল ভয় দূর হয় না। রাষ্ট্রের প্রতি হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষ স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার এবং গুজব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more