১১৬টি সাবমেরিন ড্রোন একসঙ্গে চালিয়ে বিশ্বরেকর্ড চীনের
Date: 2026-09-30
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৩:৪০ এ.এম
১১৬টি সাবমেরিন ড্রোন একসঙ্গে চালিয়ে বিশ্বরেকর্ড চীনের
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পানির নিচে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে চীন। দেশটির একটি গবেষণাদল একসঙ্গে সর্বমোট ১১৬টি ক্ষুদ্রাকার আন্ডারওয়াটার ড্রোন পানির নিচে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খেতাব অর্জন করেছে। কোনো মানুষের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই ড্রোনগুলো তাৎক্ষণিক ডেটা ও নিজেদের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে পানির তলদেশে নির্দিষ্ট রুট ধরে একযোগে চলাচল করতে সক্ষম হয়।
চীনের ‘নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি’র একদল গবেষক সম্প্রতি সফলভাবে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেন। গবেষণাকাজে তাদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে দেশটির সামরিক ও সামুদ্রিক প্রযুক্তি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিস’। গিনেস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার চওড়া একটি বিশাল সুইমিং পুলে ড্রোনগুলোকে পর্যায়ক্রমে পানিতে নামানো হয়েছিল। সেখানে ‘টিএইচ-৬১৮’ মডেলের ড্রোনগুলো পানির ৫০০ মিটার পথ কোনো বিঘ্ন ছাড়াই দীর্ঘ ৩৪ মিনিট সফলভাবে পাড়ি দেয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক ও বেসামরিক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ডুবোযানকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও সুসংহতভাবে পরিচালিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। গবেষকদের মতে, পানির নিচে পানির প্রবাহ ও সীমাবদ্ধ যোগাযোগের মধ্যেও শতাধিক ড্রোনকে এমন স্থিতিশীলভাবে একযোগে চালনা করা সামুদ্রিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বড় সাফল্য। এ পরীক্ষায় ব্যবহৃত একেকটি ড্রোনের ওজন ৫.১৪ কেজি এবং দৈর্ঘ্য ৬১.৫ সেন্টিমিটার। এগুলোতে উন্নত ভিশন ক্যামেরা ও প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে, যা সামনের যেকোনো বাধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সামঞ্জস্য করে দিক পরিবর্তন করতে পারে। এগুলো এক চার্জে আট ঘণ্টারও বেশি সময় সক্রিয় থাকতে সক্ষম এবং সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে পারে।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সশস্ত্র বাহিনী যখন আগের সনাতন ব্যবস্থার বদলে চালকহীন প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে, ঠিক তখন চীনও সমুদ্র, আকাশ ও আকাশসীমায় চালকহীন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরে প্রথমবার পানির নিচের ড্রোন দিয়ে রুশ জাহাজে সফল হামলা চালায়। অন্যদিকে, চীনা গবেষকরাও সম্প্রতি বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলগুলো সুরক্ষায় ড্রোন সোয়ার্ম বা ঝাঁক বেঁধে ড্রোন ব্যবহারের কৌশল প্রস্তাব করেছেন। শুধু চীনই নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নেও পানির নিচে রোবটিক ড্রোনের দলগত ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more