প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৭, ২০২৬, ৫:১৩ এ.এম
রামগঞ্জে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি বেসরকারি একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর
ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে রাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। নিহত শিক্ষার্থীর
নাম মেহেদী হাসান (১৪)। সে উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন জিয়ার ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসের
জানালার গ্রিলের সঙ্গে মেহেদীর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় অন্য শিক্ষার্থীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক অবস্থায় পুলিশের ধারণা এটি আত্মহত্যা হতে পারে, তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিহত মেহেদীর বাবা জিয়া উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ছেলে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তার আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণই ছিল না। আমরা নিশ্চিত যে তাকে হত্যা করার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।" শিক্ষার্থীকে হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাত আটটার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে শত শত মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে জড়ো হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং অভ্যর্থনাকক্ষসহ ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিচার চেয়ে স্লোগান দিতে থাকে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "শিক্ষার্থীকে
হত্যার অভিযোগে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছিল। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত
পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের
জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more