প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৫:০৬ এ.এম
ঐতিহাসিক বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
গত শুক্রবার দরবার হলে শপথগ্রহণের পর আজ রবিবার বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠতে যাচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাসন ও দাপ্তরিক কাজের প্রতীক—শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক এই ভবনে।
রাজধানীর দিলখুশা এলাকায় অবস্থিত ২৩.৫ হেক্টর আয়তনের এই প্রাঙ্গণটি কেবল রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বা দপ্তরই নয়, বরং এর প্রতিটি ইটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বঙ্গভঙ্গ, ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের বহু উত্তাল রাজনৈতিক ইতিহাস।
যেভাবে শুরু হয়েছিল বঙ্গভবনের যাত্রা ইতিহাসবিদ মুনতাসির মামুনের ‘ঢাকা-স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির ‘ঢাকা কোষ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর নতুন গঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের লেফট্যানেন্ট গভর্নরের বাসভবন হিসেবে এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ব্রিটিশ সরকার।
তৎকালীন ঢাকার নবাব পরিবার, বিশেষ করে স্যার সলিমুল্লাহ দিলখুশায় তাঁদের পারিবারিক বাগানবাড়ির দক্ষিণ অংশের ‘দানা দিঘীর ময়দান’ ব্রিটিশ সরকারকে ইজারা দেন। নতুন প্রদেশের প্রথম লেফট্যানেন্ট গভর্নর স্যার জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলার নিজেই এই জায়গাটি পছন্দ করেছিলেন। ১৯০৫ সালে কাজ শুরু হয়ে ১৯০৬ সালেই তিনি নতুন ভবনে ওঠেন, যদিও পুরো নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ১৯১১ সালে।
‘কাঠের প্রাসাদ’ থেকে আজকের ভবন শুরুর দিকে এটি ‘গভর্নমেন্ট হাউজ’ নামে পরিচিত ছিল। এর মেঝের আয়তন ছিল ২৫ হাজার ১২৮ বর্গফুট এবং মাটি থেকে চার ফুট উঁচু সেগুন কাঠের তৈরি মেঝে থাকার কারণে একে বলা হতো ‘টিম্বার প্যালেস’ বা কাঠের রাজপ্রাসাদ। ১৯৬১ সালের এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে মূল কাঠের ভবনটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে লাহোরের প্রখ্যাত স্থপতি মঈনুদ্দিন চিশতীকে এনে নতুন ভবন নকশার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎকালীন গভর্নর আজম খানের আগ্রহে নকশায় যুক্ত হয় ইসলামী স্থাপত্যশৈলী। ১৯৬৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ৮৪ হাজার বর্গফুটের নতুন দোতলা প্রাসাদের নির্মাণকাজ শেষ হয়, যাতে যুক্ত হয় আজকের ঐতিহ্যবাহী দরবার হল, রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তর ও শোবার ঘর।
নাম রূপান্তর ও স্বাধীন বাংলাদেশে পদার্পণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে বিমান হামলায় ভবনটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২৩ ডিসেম্বর এখানেই বসে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। এর পরপরই ভবনটিকে রাষ্ট্রপতির সরকারি আবাস ও কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করে নতুন নাম দেওয়া হয় ‘বঙ্গভবন’।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্রকর্ম ও আধুনিক সুবিধাদি যুক্ত করে একে সাজানো হলেও, শতাব্দী প্রাচীন এই ভবনটি আজও বহন করে চলেছে এ অঞ্চলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর স্মৃতি ও স্থাপত্যের ঐতিহ্য। আজ নতুন রাষ্ট্রপতির পদার্পণে বঙ্গভবনের দীর্ঘ ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নতুন অধ্যায়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more