প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৬, ২০২৬, ২:১১ এ.এম
মোংলা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া সমস্ত কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং তরুণ ও যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাগেরহাট ও মোংলা সফরকালে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে এক বিশাল পথসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে বলেন, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছে এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারা এখন বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশের শিল্পকারখানা ভাঙচুর করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের মতোই জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব ষড়যন্ত্রের উচিত জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান যে, শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত দাবি বিবেচনার জন্য ইতিমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে। তিনি খুলনার মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলগুলোর গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন এবং খুলনা, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। কাটাখালীর পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রটোকল ভেঙে কুশল বিনিময় করেন।
এর আগে সকালে হেলিকপটারযোগে মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব গড়ে তুলবে এবং এটি বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে মোংলা বন্দরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে এবং এটিকে 'ফার্স্ট কলিং পোর্ট' হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান।
বিকেলে খুলনা প্রবেশের সময় রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যান এবং হাত মেলান। পরবর্তীতে খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ে এক আকস্মিক পথসভায় তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি খুলনার বন্ধ শিল্পকারখানা দ্রুত চালু করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা সমাধানকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপটারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more