কুয়াকাটা ঘিরে দক্ষিণ উপকূলে সমন্বিত পর্যটন বলয় গড়ার প্রস্তাব
Date: 2026-09-27
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ৪:৩৭ এ.এম
কুয়াকাটা ঘিরে দক্ষিণ উপকূলে সমন্বিত পর্যটন বলয় গড়ার প্রস্তাব
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পটুয়াখালীর সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা কেবল একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, বরং এর অনন্য প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে দেশের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার দুর্লভ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গঙ্গামতির ম্যানগ্রোভ বন, লেম্বুর বন, আন্দারমানিক নদীর মোহনা, রাখাইন সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির এবং স্থানীয় জেলেদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা পর্যটকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে।
তবে শুধু কুয়াকাটাতেই সীমাবদ্ধ না রেখে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে যুক্ত করে এক বিশাল পর্যটন বলয় তৈরির অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও বরগুনার তালতলীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও আকর্ষণীয় স্থানগুলোকে কুয়াকাটার সাথে যুক্ত করে ২ থেকে ৪ দিনের একটি সমন্বিত পর্যটন সার্কিট তৈরি করা সম্ভব। এর আওতায় রাঙ্গাবালীর জাহাজমারা, সোনারচর, চরহেয়ার ও তুফানিয়ার চর এবং তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্ক, সোনাকাটা, আশারচর, শুভসন্ধ্যা সৈকত ও লালদিয়ার চর যুক্ত হতে পারে। এছাড়া শীতকালে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা এবং লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ‘চর বিজয়’ (হাইরের চর) ভ্রমণকারীদের মাঝে নতুন এক রোমাঞ্চ জাগিয়ে তোলে।
এই ধরনের সমন্বিত আঞ্চলিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বৃদ্ধি পাবে। ফলে দক্ষিণ উপকূলের আবাসন, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় নৌযান, হস্তশিল্প, গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি, ট্যুর অপারেটর ও গাইড সংগঠনের প্রতিনিধিরা কুয়াকাটাকে শুধু সমুদ্রসৈকত-নির্ভর স্থান না বানিয়ে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি ট্যুর প্যাকেজের আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সাথে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা ‘ইকোট্যুরিজম’ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে সামুদ্রিক ভাঙন মোকাবিলায় পাউবো প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অস্থায়ী জিও ব্যাগ ও জিও টিউব বসালেও সৈকতের মূল সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পরিবেশের ক্ষতি না করে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সৈকত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মতে, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবকাঠামো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে কুয়াকাটাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more