প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ৫:৫৩ এ.এম
ইসলামে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
অ-অ+
নিজস্ব প্রতিবেদন:
ইসলামি জীবনবিধানে সপ্তাহের প্রতিটি দিনের মাঝে জুমাবার বা শুক্রবারকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ রহমত, বরকত ও গুনাহ মাফের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। জুমার দিনটিকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের জন্য "সাপ্তাহিক ঈদের দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার ফলে এই দিনের সামাজিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম।
জুমার নামাজ ও এই দিনের বিশেষ আমল বান্দার অতীত জীবনের ছোট ছোট গুনাহ মোচনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন যে, এক জুমার নামাজ থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে বান্দার জীবনের সগিরা গুনাহগুলো আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন। সপ্তাহের কর্মব্যস্ত জীবনে অর্জিত আত্মিক মলিনতা দূর করে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয় এই মোবারক দিন।
জুমার দিনে দ্রুত এবং প্রথমভাগে মসজিদে উপস্থিত হওয়ার ওপর ইসলামে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরীফ অনুযায়ী, জুমার দিনে ফেরেশতারা মসজিদের প্রতিটি প্রবেশদ্বারে খাতা নিয়ে অবস্থান করেন এবং আগত মুসল্লিদের নাম ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেন। যে ব্যক্তি সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে আল্লাহর রাস্তায় একটি উট কোরবানির সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে আসা ব্যক্তিরা একটি গরু, ছাগল, মুরগি এবং সর্বশেষে একটি ডিম সদকা করার সওয়াব অর্জন করে। খতিব যখন খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বারে আসন গ্রহণ করেন, তখন ফেরেশতারা তাঁদের খাতা বন্ধ করে খুতবা শোনায় মনোনিবেশ করেন, তাই খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে প্রবেশ করা অতি জরুরি।
জুমার নামাজের আজান দেওয়া মাত্রই যাবতীয় কেনাবেচা ও জাগতিক কাজকর্ম স্থগিত রাখার জন্য পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সূরা আল-জুমুআ’র ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন যেন মুমিনেরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হয় এবং বেচাকেনা বর্জন করে। কোনো যুক্তিসঙ্গত ও শরয়ি কারণ ছাড়া অবহেলা বা অলসতা করে জুমার নামাজ বর্জন করা চরম বিপজ্জনক। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি অলসতা বা অবহেলা করে পর পর তিনটি জুমার নামাজ ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন এবং তাকে গাফেল ও মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত জুমার দিনের আদব বজায় রেখে, ধীরস্থিরভাবে অযু করে ও সুগন্ধি মেখে খুতবা শুরুর আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে এই মহান নিয়ামতের অংশীদার হওয়া।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more