দুমকীতে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন: ২০ পরিবার গৃহহীন, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ
Date: 2026-09-13
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১০:২৩ এ.এম
দুমকীতে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন: ২০ পরিবার গৃহহীন, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ
অ-অ+
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে পায়রা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে নতুন করে প্রায় ২০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে ইতোমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখন গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। তবে সামর্থ্যের অভাবে অনেক পরিবার নদীর কাছাকাছি এলাকায় বারবার নতুন করে ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। ফলে একেকটি পরিবারকে জীবনে একাধিকবার বসতভিটা পরিবর্তন করতে হয়েছে। সর্বশেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে কেউ কেউ সরকারি সড়কের পাশে ঘর তুলে বসবাস করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পায়রা নদীর ভাঙন চললেও ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
হুমকিতে বিদ্যালয় ও মসজিদ নদীভাঙনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেল্টার। একই সঙ্গে সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীর গতিপথ আরও এগিয়ে এসে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের দুর্যোগকালীন আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থাও সংকটে পড়তে পারে।
সাতবার বসতভিটা হারিয়েছেন নিটুলী রানী
বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা নিটুলী রানী বলেন, নদীভাঙনের কারণে এ পর্যন্ত তিনি সাতবার বসতভিটা হারিয়েছেন। সর্বশেষ ঘরটিও নদীতে বিলীন হওয়ার পর বর্তমানে রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, “পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে কোথায় গিয়ে থাকব, তা জানি না।”
পাঁচ-ছয়বার ঘর পরিবর্তন স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মাল বলেন, তাঁদের বাপ-দাদার সময় থেকেই এ এলাকায় নদীভাঙন চলছে। নিজের জীবনেই তাঁকে পাঁচ-ছয়বার ঘর পরিবর্তন করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দা জাকির খান বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা ও দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা দেখা যায়নি। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more