প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৮, ২০২৬, ৩:০৪ এ.এম
দৌলতপুর সীমান্তে ৩৫ কোটি টাকার মাদক ও পণ্য জব্দ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ও পদ্মা নদীর নৌপথ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নানা ধরনের চোরাচালানি পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের মাধ্যমে এসব মালামাল পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
৯ মাসে ৩৫ কোটি টাকার মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ কোটি ৯৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ টাকা (প্রায় ৩৫ কোটি টাকা) মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১৬ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৫ টাকা এবং অন্যান্য অবৈধ মালামালের মূল্য ১৮ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৫ টাকা। এসব চোরাচালান বিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ২,২৯৮ বোতল বিদেশি মদ, ১,১০৪ বোতল ভারতীয় সিনা অ্যালকোহল, ২,৭৯২ বোতল ফেনসিডিল, ২৫,০৬২টি ইয়াবা, ২.৩৭১ কেজি হেরোইন, ১৪১.৯৩৩ কেজি গাজা, ১২ বোতল এলএসডি, ১ কেজি আফিম, ২৫০ গ্রাম কোকেন এবং ২ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট। এছাড়া উদ্ধারকৃত অন্যান্য পণ্যের মধ্যে সাতটি বিদেশি পিস্তল, চারটি দেশীয় শুটার গান, ১২টি ম্যাগাজিন, ১৫ রাউন্ড গুলি, ৬০০০০ বোম-গুলি এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় প্রসাধনী, সার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল সামগ্রী রয়েছে।
ভৌগোলিক পরিবর্তন ও সীমান্ত শিথিলতার সুযোগ দৌলতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার সীমান্ত ও উদয়নগর বিওপি-সংলগ্ন এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্তের একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। চিলমারীর উদয়নগর, আদাবাড়িয়ার ধর্মদহ ও পশ্চিম ধর্মদহ, প্রাগপুরের জামালপুর ও বিলগাতুয়া এবং রামকৃষ্ণপুরের চল্লিশপাড়া ও ভাগযোতসহ পদ্মার বিভিন্ন নৌপথকে চোরাকারবারিরা প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে 'হোম ডেলিভারি' ব্যবস্থা মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ। বিশেষ করে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, কারণ এগুলো আকারে ছোট এবং সহজে বহন করা যায়। প্রশাসনের নজর এড়াতে বর্তমানে সরাসরি কেনাবেচার বদলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে 'হোম ডেলিভারি' পদ্ধতিতে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
সমন্বিত অভিযানের তাগিদ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চিকিৎসকদের মতে, ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় দৌলতপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু টহল বৃদ্ধি নয়, বরং মাদক ও চোরাচালানের গতি থামাতে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ও সমন্বিত অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more