প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১:১৮ এ.এম
ঢাকার বাইরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর তাণ্ডব
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। রাজধানী ঢাকার গণ্ডি পেরিয়ে এখন ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বাড়ছে, যা নতুন এক বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় শ ছুঁতে চলেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, একদিনেই নতুন করে আরও ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং সারাদেশে ১ হাজার ৫৬১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃত্যুর হার ঢাকার বাইরেই সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ মারা যাওয়া ৬ জনের সবাই রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোর বাসিন্দা ছিলেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে। এর পর চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি খুলনা বিভাগে, যেখানে একদিনেই ভর্তি হয়েছেন ২৭৫ জন। চলতি বছরে মোট আক্রান্তের মাত্র এক-চতুর্থাংশ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার (১২ হাজার ৪৭৭ জন), যার অর্থ দেশের সিংহভাগ আক্রান্তই এখন ঢাকার বাইরে।
বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে কিছুটা উদ্যোগ দেখা গেলেও ঢাকার বাইরের জেলা ও গ্রামগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এর ফলেই সেখানে আক্রান্ত ও প্রাণহানির হার হু হু করে বাড়ছে। আগস্ট মাসে যেখানে ২০ হাজার ৫৩৬ জন রোগী আক্রান্ত এবং ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই ইতিমধ্যেই ৫২ জনের মৃত্যু হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আরও বাড়ার আশঙ্কাজনক বার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
সম্প্রতি সরকার তিন মাসব্যাপী একটি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ পদক্ষেপ বেশ দেরিতে নেওয়া হয়েছে। উপরন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে মশার বংশবৃদ্ধি আরও তরান্বিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন পরামর্শ দিয়েছেন, কেবল পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাসেবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্ভাব্য রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। প্রতিটি ঘরে জ্বর হওয়া রোগীদের দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত কিছুটা হলেও কমানো যাবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more