প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১৮, ২০২৬, ২:০১ পি.এম
কমিশন পেলেন ১৮৪ ক্যাডেট, সেরা খায়রুল ইসলাম
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ এক জমকালো ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর ও নিবিড় সামরিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন মোট ১৮৪ জন নবীন অফিসার। এদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এবারের কুচকাওয়াজে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএমএ-এর সুনামের প্রতিফলন ঘটেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশ তানজানিয়া, জাম্বিয়া, মালদ্বীপ ও ফিলিস্তিনের মোট ৭ জন বিদেশি ক্যাডেটও এই একাডেমি থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, যারা এখন নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন অফিসারদের চিত্তাকর্ষক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পরে তিনি কৃতি ক্যাডেটদের হাতে পদক ও পুরস্কার তুলে দেন। ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে কৃতিত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এ ছাড়া তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর সেরা বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন। কুচকাওয়াজ শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ নেন। এরপর উপস্থিত অভিভাবকরা পরম মমতায় তাঁদের সন্তানদের সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন। নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, "আজকের এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে আপনাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হলো।" তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত, সুশৃঙ্খল এবং বিশ্বমানের পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটিকে আরও স্মরণীয় করে রাখতে সেনাপ্রধান বিএমএ-তে নতুন 'দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'-এর শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্যাডেটদের নেতৃত্বের যোগ্যতা ও পেশাগত মান আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বিএমএ-তে নবনির্মিত সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এর আগে সেনাপ্রধান প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জিওসি ও বিএমএ কমান্ড্যান্ট এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নবীন অফিসারদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more