অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজে উত্তাল পরিস্থিতি
নভেম্বর ০৬, ২০২৬, ১:৪০ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ০৬, ২০২৬, ১:৪০ এ.এম
অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স কলেজে উত্তাল পরিস্থিতি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। দুই শিক্ষার্থীর আবাসন বাতিল এবং জরিমানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তীতে অধ্যক্ষের অবরুদ্ধকরণ, পুলিশের উদ্ধার অভিযান এবং শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগে মধ্যরাতের রাজপথ অবরোধে রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত বিদায় অনুষ্ঠানের সময়সীমাকে কেন্দ্র করে। স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের বিদায় সংবর্ধনা রাত ১২টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা ভোর ৫টা পর্যন্ত গড়ায়। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা প্রার্থনা করলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানার নোটিশ জারি করা হয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ এটিকে অযৌক্তিক দাবি করে প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতির বিষয়ে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা জানান, আদেশ অমান্য করে দীর্ঘ সময় অনুষ্ঠান চালানো এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের দরুন নিয়মশৃঙ্খলার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সাদা কাগজে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বহাল থাকে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে পুলিশ গিয়ে অধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বিক্ষোভরত ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, এতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ছাত্রীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মধ্যরাতে কলেজের বাইরের প্রধান সড়কে নেমে আসেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ, পুলিশি হামলার তদন্ত ও জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পেশ করেন। পরবর্তীতে রাত ২টা ১৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সড়ক ত্যাগ করলেও, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more