প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৩, ২০২৬, ৪:৩৩ এ.এম
৫১ পাহাড়ে ২২ হাজার অবৈধ বসতি ঝুঁকিতে
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর ও এর আশপাশের ৫১টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ বসতি, যেখানে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কয়েক লাখ মানুষ. সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে শুধু গত এক সপ্তাহেই পাঁচ মাদ্রাসাছাত্রীসহ অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে. পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত গত ১৮ বছরে এই জেলায় পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট ৩১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন. স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ফাটল ধরার মড়মড় শব্দই এখন পাহাড়তলী, বাদশাঘোনা, ছাত্তারঘোনা, খাজা মঞ্জিল, লারপাড়া ও টেকনাইফ্যা পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক. জীবনের চরম ঝুঁকি সম্পর্কে জানা থাকলেও মূলত চরম দারিদ্র্য, পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকা এবং অন্যান্য জায়গায় অতিরিক্ত বাসা ভাড়ার কারণে ভাসমান শ্রমজীবী ও জলবায়ু উদ্বাস্তুরা এই বিপজ্জনক ভিটেমাটি ছাড়তে পারছেন না. এদিকে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের অবাধ দৌরাত্ম্যের কারণে কোনোভাবেই পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করা যাচ্ছে না. এই চক্রগুলো দরিদ্র মানুষের নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সরকারি ও বনাঞ্চলের পাহাড় কেটে চড়া দামে জমি বিক্রি করছে. এর ফলে একদিকে যেমন প্রতি বর্ষায় লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে বন্যপ্রাণীর আবাসন ধ্বংসসহ সামগ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে. বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জানিয়েছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে, যা শহরে তীব্র জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি করছে. জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এই পরিস্থিতি নিয়ে জানিয়েছেন, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া পাহাড়ের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করা অত্যন্ত জটিল এক চ্যালেঞ্জ. তবে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জোর তৎপরতা চলছে এবং ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more