অনলাইন ডেক্স: এক নতুন রাজনৈতিক
আবহে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায়
শুরু হওয়া এই অধিবেশনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
ভাষণ এবং বিরোধী জোটের ওয়াকআউটসহ নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। নতুন স্পিকার
মেজর হাফিজ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনের শুরুতেই
স্পিকার হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর বিক্রম মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন
আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করা হয়। সংসদ
নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবে বিরোধী দলও সমর্থন জানায়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। উল্লেখ্য, স্পিকার
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের রয়েছে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। তিনি যেমন রণাঙ্গনের বীর
বিক্রম, তেমনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ও সাবেক দ্রুততম মানব। অন্যদিকে,
নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমানে জাতীয়তাবাদী
আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খালেদা জিয়াসহ
বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব অধিবেশনের শুরুতেই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের
মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শোকপ্রস্তাবে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত এই
নেত্রীর গণতন্ত্র রক্ষায় আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করা হয়। এছাড়া ভারতের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পোপ ফ্রান্সিস, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ
আলী খামেনি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ
সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের বক্তব্য: ‘এই সংসদ জনগণের’ শুভেচ্ছা বক্তব্যে
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই সংসদ বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।
দেশের মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” তিনি বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের
পুনর্যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে
সবার সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির
ভাষণ ও জামায়াত জোটের ওয়াকআউট অধিবেশনের অন্যতম
আলোচিত ঘটনা ছিল ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের (জামায়াত জোট) সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউট।
বিকেল সাড়ে ৩টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিতে শুরু করলে জোটের এমপিরা ‘জুলাইয়ের
সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল কার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তারা
স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে রাষ্ট্রপতি
তার ভাষণে গত দেড় দশকের শাসনকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান: অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসায় ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্যকার্ড
দেওয়া হয়েছে। শহীদদের স্মৃতিতে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ ও ঢাকায়
স্মৃতি জাদুঘর নির্মিত হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৪.৭৮ বিলিয়ন
ডলারে উন্নীত হয়েছে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে সংস্কার কমিশন
গঠন করা হচ্ছে। দর্শক সারিতে
বিশিষ্টজনের উপস্থিতি সংসদের গ্যালারিতে
আজ উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস,
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ গোলাম নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক নুর মুহাম্মদ।
কূটনৈতিক গ্যালারিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন ও ভারতের রাষ্ট্রদূতদের সরব উপস্থিতি
লক্ষ্য করা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা
রহমানও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে প্রথম
দিনের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। তথ্য-বিডিপ্রতিদিন/
জাগোবিডি বিডিফেস/ সুমাইয়া
শিমু
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more