সাইফুল ইসলাম
জলিল, বাউফল থেকে- পটুয়াখালীর
বাউফল উপজেলা-এর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে
পড়েছেন কৃষকরা। ভালো ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না অনেকেই।
ফলে ঋণের চাপ বেড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। স্থানীয় সূত্রে
জানা গেছে, একসময় এ অঞ্চলে ডাল, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, আলু ও বাদামের মতো বিভিন্ন রবি
ফসলের আবাদ বেশি ছিল। স্বল্প খরচে এসব ফসল উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে স্বাচ্ছন্দ্যে
জীবনযাপন করতেন কৃষকরা। তবে অধিক লাভের আশায় গত কয়েক বছরে তারা ঝুঁকে পড়েন তরমুজ চাষে। কৃষকদের ভাষ্য,
তরমুজ চাষে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রম খরচ তুলনামূলক অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে ফলন ভালো
হলেও বাজারে দাম কম থাকায় অধিকাংশ কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছেন। এতে করে অনেকেই আগামীতে
তরমুজ চাষ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছেন। এদিকে, তরমুজ
চাষের বিস্তারের কারণে ঐতিহ্যবাহী রবি ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা
জানান, এর ফলে স্থানীয়ভাবে খাদ্যশস্যের ঘাটতি তৈরি হয়ে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে
গেছে। উপজেলা কৃষি
অফিস সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় চরাঞ্চল হওয়ায় বাউফলে প্রতিবছরই কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে
তরমুজের আবাদ হয়। এ পরিমাণ প্রায় ২,০০০ থেকে ৫,০০০ হেক্টরের মধ্যে ওঠানামা করে। ২০২৫
সালে এখানে উৎপাদিত তরমুজ ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিক্রি হয়েছে। দুই ২০২৬ সালে তরমুজ
চাষ বেড়েছে। এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও অনেক স্থানের তরমুজ ক্ষেত ভাইরাস আক্রান্ত
হয়েছে। উপজেলা কৃষি
কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, “এক ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তাই ফসল বৈচিত্র্য বজায় রাখা জরুরি।” তিনি কৃষকদের রবি ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি
সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ
করেন। স্থানীয়দের
মতে, কৃষকদের টেকসইভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে তরমুজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি
বিকল্প ফসল চাষে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more