তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ ও পটুয়াখালী-ভোলা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন
Date: 2026-09-04
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬, ১:৩৬ পি.এম
তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ ও পটুয়াখালী-ভোলা সেতুর দাবিতে মানববন্ধন
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পটুয়াখালী-ভোলা সেতু নির্মাণের দাবিতে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ধূলিয়া ও পার্শ্ববর্তী দুর্গাপাশা ইউনিয়নের হাজারো নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন বাউফলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীভাঙনের হাত থেকে মানুষের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।”
পটুয়াখালী-ভোলা সেতুর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। শুধু বাউফল ও ভোলার মানুষের যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং পায়রা বন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ভোলা জেলার ভেলুমিয়া ও পটুয়াখালীর ধূলিয়া সেতু ও টেকসই বাঁধ আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক মোফাজ্জেল হক মফুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তছলিম উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. খালিদুর রহমান, ঢাকাস্থ বাউফল উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রব মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন বাবুল, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ, ধূলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম হোসেন তারেক। বক্তারা বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত ফসলি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে ধূলিয়া ইউনিয়নের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর ওপর পটুয়াখালী-ভোলা সেতু নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও বরিশালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে শিল্প-কারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত পটুয়াখালী-ভোলা সেতু নির্মাণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more