সুয়েজ ট্রানজিটে আতঙ্ক: বাড়ছে বিশ্ব জ্বালানি ঝুঁকি
Date: 2026-08-01
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০১, ২০২৬, ৪:২৫ এ.এম
সুয়েজ ট্রানজিটে আতঙ্ক: বাড়ছে বিশ্ব জ্বালানি ঝুঁকি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর নতুন করে বড় আঘাত হেনেছে। পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার পর, একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন রুটেও এবার নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে সম্প্রতি মার্কিন মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকারে রহস্যজনক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরাসরি সুয়েজ খালে কোনো আক্রমণের হুমকি না থাকলেও, নিকটবর্তী বন্দরে এই নজিরবিহীন হামলা পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও তেলের বাজারে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালি বন্ধের উপক্রম হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল ও গ্যাস ভূমধ্যসাগরে পৌঁছাতে মিসরের লোহিত সাগর উপকূলের সুয়েজ খাল এবং সুমেদ পাইপলাইনকে বিকল্প ও নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক শিপিং ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, বিকল্প এই পথটিও যদি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক অন্তত ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের অব্যাহত হুমকি ও হামলার ভয়ে অনেক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার ইতিমধ্যে সুয়েজ অভিমুখে দক্ষিণমুখী সংক্ষিপ্ত রুট এড়িয়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে, যা জ্বালানি পরিবহনে দ্বিগুণ সময়ের পাশাপাশি আকাশচুম্বী খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমধ্যসাগর ও সুয়েজ খালের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে এই অনিশ্চয়তার কারণে জাহাজগুলোর ‘ওয়ার রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা যুদ্ধকালীন বিমা মাশুল একলাফে অনেক বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে এশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক মাসেরও বেশি অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও আলোচনার খবরে সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা থমকে আছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে সুয়েজ খালের ওপর সরাসরি কোনো আঘাত এলে বা এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানি সংকট এবং নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি তৈরি করবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more