বিডিফেস ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল
বা নতুন মেরুকরণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথের অন্যতম
প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রভাবশালী
নেতাদের পরিণতি বিশ্লেষণ করলে একটি স্পষ্ট বাস্তবতা সামনে আসে—সময় বদলায়, ব্যক্তি হারিয়ে
যায়, কিন্তু দলীয় কাঠামো টিকে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এ দেশের
রাজনীতিতে ব্যক্তি নয়, দলীয় প্রতীক ও সংগঠনই মূল চালিকাশক্তি। ফলে দলত্যাগী অনেক হেভিওয়েট
নেতা আজ কার্যত রাজনৈতিক “মহাশূন্যে” হারিয়ে গেছেন। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: বি.
চৌধুরী থেকে অলি আহমেদ ২০০২ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা
মহাসচিব ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী দল ত্যাগ করে ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’
গঠন করলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিএনপি
বড় ধরনের সংকটে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দলটি তার সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখে, আর বি. চৌধুরীর
রাজনৈতিক প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যায়। একই চিত্র দেখা যায় ২০০৬
সালে। বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপি গঠন
করেন। তখনও দলটির ভিত নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বাস্তবে বিএনপি তার অবস্থান অটুট
রাখে, আর অলি আহমেদ আগের সেই প্রভাব ফিরে পাননি। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা
প্রসঙ্গ- বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী
নেতা ও যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন
করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে ‘গমের শীষ’ প্রতীক চাওয়াসহ নানা উদ্যোগে তিনি আলোচনায় এলেও,
মূলধারার রাজনীতিতে স্থায়ী প্রভাব রাখতে পারেননি। নিভৃত নির্বাসনে হেভিওয়েটরা ২০১৫ সালে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির
অন্যতম কারিগর শমসের মুবিন চৌধুরী এবং ২০১৬ সালে মোসাদ্দেক হোসেন ফালু-এর দলত্যাগ বেশ
আলোচিত হয়। সে সময়ও দলটির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয়
কাঠামো অক্ষত থাকে, আর ব্যক্তিগতভাবে তারা রাজনীতির আড়ালে চলে যান। সাম্প্রতিক উদাহরণ- সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও একই
প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে তৈমুর আলম খন্দকার এবং ২০২৩ সালে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান
ওমর দলত্যাগ করলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাময়িক আলোচনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
তাদের প্রভাব কমে যায় এবং দলীয় শক্তিই প্রাধান্য পায়। ইসহাক সরকার প্রসঙ্গ- ২০২৬ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত
ইসহাক সরকার নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা সামনে
এনে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দলগুলোর শক্তি কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। দল থেকে
বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নেতাদের রাজনৈতিক পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞ মতামত- রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
বাংলাদেশের ভোটাররা মূলত দলীয় প্রতীক, আদর্শ ও সাংগঠনিক শক্তিকেই গুরুত্ব দেন। ফলে
ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন, দল ছাড়ার পর সেই প্রভাব টেকসই থাকে না। শেষ পর্যন্ত দলত্যাগী নেতাদের
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটা “ঝরা পাতা”-র মতো হয়ে দাঁড়ায়—যার পরিণতি হয় বিস্মৃতি, কিংবা
রাজনৈতিক মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়া। লেখক- তরিকুল ইসলাম মোস্তফা
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more