প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু: সুশাসনের অভাব ও বিতর্কে বর্ষপূর্তি
Date: 2026-09-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬, ১:২৮ এ.এম
প্রতিশ্রুতি পূরণে পিছিয়ে ডাকসু: সুশাসনের অভাব ও বিতর্কে বর্ষপূর্তি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হলো আজ ৯ সেপ্টেম্বর। তবে এক বছর অতিক্রম করলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেওয়া মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর খুব কমই পূরণ করতে পেরেছে ডাকসু নেতৃত্ব। আবাসনসংকট নিরসন, ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাস নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে আশানুরূপ কোনো অগ্রগতি দেখতে পাননি ঢাবির শিক্ষার্থীরা।
নির্বাচনের পূর্বে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, প্রথম বর্ষ থেকেই হলের বৈধ আসন নিশ্চিত করা হবে। তবে বাস্তবে তা পূরণ হয়নি; উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী শাফিনূর রহমান তাজিম ক্লাস শুরুর পাঁচ মাস পর আজও হলের আসন পাননি, যার ফলে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁকে হলের বাইরে ভাড়া থাকতে হচ্ছে।
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাশাপাশি ডাকসু নেতারা জড়িয়ে পড়েছেন নানা বিতর্কেও। বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ—নির্বাচনের পূর্বে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির বিরোধিতা করলেও ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম নিজে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলটির লেজুড়বৃত্তি করেছেন। এ ছাড়া ডাকসুর একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেওয়া ও ‘মব’ সৃষ্টি করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
অবশ্য নেতিবাচক দিকগুলোর পাশে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, অতীতে শিবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ ছিল, ডাকসুর এই এক বছরে তা দৃশ্যমান হয়নি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে হল দখল ও মারামারির মতো সহিংস ঘটনা ঘটেনি, এবং ক্লাস-পরীক্ষাগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়েছে। এই স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে বিরোধী ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের হল দখলের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান এই পরিস্থিতি মূল্যায়নে জানান, ভোটের রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাসে কিছু পরিবর্তন এসেছে—যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই; তবে এই ইতিবাচক ধারা কত দিন টেকসই হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more