নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে বেঁচে ফিরলেন ২ প্রকৌশলী
Date: 2026-09-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬, ২:১৮ এ.এম
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে বেঁচে ফিরলেন ২ প্রকৌশলী
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক
হিমবাহ ধসে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সুড়ঙ্গের ভেতরের ঘুটঘুট অন্ধকার, চারপাশে থিকথিকে কাদাপানি আর অক্সিজেনের অভাব—এমনি এক চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টানা ৯ দিন আটকে ছিলেন নেপালের দুই জলবিদ্যুৎকর্মী। অবরুদ্ধ সেই অন্ধকূপ থেকে অবশেষে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাঁদের।
উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন—কবির মহরজন এবং সঞ্জয় শাহ (যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান)। হিমালয়কন্যা নেপালে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর তাঁদের উদ্ধার হওয়ার ঘটনা গোটা অঞ্চলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
দুর্যোগের সেই বিভীষিকাময় সকাল ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট। নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার উজানভাগে অবস্থিত লাংটাং লিরুং পর্বতে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ে। চোখের নিমেষে কাদা ও পানির এক প্রকাণ্ড দেয়াল ভাটির গ্রামগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে নিচে নেমে আসে।
সেদিন সকাল সাড়ে ৭টায় 'আপার ত্রিশূলী-৩' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়ার সময় স্ত্রী হীরা শোভাকে ফোন করেছিলেন কবির মহরজন। সুড়ঙ্গে ঢোকার কারণে নেটওয়ার্ক থাকবে না বলে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই উজানে আঘাত হানে ভয়াবহ ঢল।
রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কন্ট্রোল রুমে হঠাৎ একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পেয়ে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে কর্মকর্তারা প্রকল্পের সুড়ঙ্গে থাকা কর্মীদের অবিলম্বে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
কাদাপানির প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভেতরের অবকাঠামো। অন্তত ৯০০ জন কর্মী-শ্রমিক আটকে পড়েন ভূগর্ভস্থ টানেল নেটওয়ার্কে।
সুড়ঙ্গের খাঁচায় অলৌকিক লড়াই সুড়ঙ্গের ভেতরে একটি পকেট কক্ষে আটকা পড়েছিলেন মহরজন ও সঞ্জয় শাহ। প্রকৌশলীদের মতে, ভাগ্যক্রমে সেই ছোট্ট কক্ষে কিছু বাতাস জমে থাকায় শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব হয়েছিল। তবে ৯ দিনের এই দীর্ঘ অবরোধে বারবার চেতনা হারিয়েছেন কবির মহরজন।
দীর্ঘ উদ্ধার অভিযান শেষে গত ৪ সেপ্টেম্বর নেপালি সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গ কেটে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। টানা ৯ দিনের মানসিক ও শারীরিক আঘাতে হাসপাতালে স্ত্রীকেও প্রথমে চিনতে পারেননি মহরজন। ধ্বংসস্তূপে নতুন আশার আলো
নেপাল এবং চীনের তিব্বতজুড়ে সংঘটিত এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সুড়ঙ্গগুলোতেই এখনো অন্তত ১২১ জন জলবিদ্যুৎকর্মী আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও কবির মহরজন ও সঞ্জয় শাহর মতো দুই কর্মীর জীবিত ফিরে আসা উদ্ধারকারী দলগুলোর ক্লান্তি মুছে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। সুড়ঙ্গে থাকা অন্য নিখোঁজদেরও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনায় উদ্ধার তৎপরতায় এখন বাড়তি গতি আনা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more