কুয়াকাটায় শেষ হলো রাখাইনদের সাংগ্রাইন জলকেলি উৎসব

Date: 2026-04-18
news-banner

জনি  আলমীর, কুয়াকাটা থেকে-
সাগরকন্যা কুয়াকাটা-তে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাইন জলকেলি উৎসব। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেট মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে পরিণত হয় প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। রাখাইন মাতুব্বর মং এমং তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার। এছাড়া কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

x67x6Vy.jpeg
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল জলকেলি পর্ব। এ সময় সাজানো নৌকায় পানি রেখে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নাচ-গান ও উৎসবের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ বহুগুণে বাড়ে।
রাখাইন মহা সাংগ্রাইন ১৩৮৮ বর্ষবরণ ও জলকেলি উদযাপন কমিটির আয়োজনে তরুণ-তরুণীরা রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে পরিবেশন করেন সাংস্কৃতিক নৃত্য। তাদের পরিবেশনায় রাখাইন জনগোষ্ঠীর শতবর্ষী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার চিত্র ফুটে ওঠে। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল।

iUNgRq4.jpeg
রাখাইন তরুণী মিয়াশু বলেন, সাংগ্রাইন তাদের জীবনে নতুন সূচনার প্রতীক। তরুণ উখিনের ভাষায়, জলকেলির মাধ্যমে তারা পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন। মংচোমেন জানান, পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে বরণ করার মধ্যেই এই উৎসবের তাৎপর্য নিহিত।
মহিপুর থানার ওসি মো. শামিম হাওলাদার বলেন, উৎসবকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন কুয়াকাটা-র পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশজুড়ে রাখাইন সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
তিন দিনব্যাপী এ উৎসব ১৮ এপ্রিল আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

Leave Your Comments