ঝোপখালী পাখির চর: উপকূলে জেগে ওঠা সম্ভাবনা

Date: 2026-02-25
news-banner

বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা:

বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণে বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা ‘ঝোপখালী পাখির চর’ ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পাখির কলতান, সবুজে মোড়া বনাঞ্চল আর নদীর বিস্তৃত জলরাশি মিলিয়ে স্থানটি ইতোমধ্যে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটি হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট।


চরটির ভেতর দিয়ে একেবেঁকে বয়ে গেছে কয়েকটি সরু নালা। জোয়ারে পানি ভরে গেলে নৌকায় চড়ে কাছ থেকে দেখা যায় পাখিদের বিচরণ, ছায়াঘেরা গাছপালা আর প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য। শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আনাগোনায় এলাকা হয়ে ওঠে মুখর। বালিহাস, বক, মদনটাকসহ নানা প্রজাতির পাখি এখানে আশ্রয় নেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত উপকূলের মানুষের কাছে নতুন করে জেগে ওঠা এই চর যেন আশার প্রতীক। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, আগামী দিনে আরও ভূমি জেগে উঠলে কৃষি, মৎস্য ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।


সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চরটি পরিদর্শন করেছেন। পর্যটন সম্ভাবনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, আগে নিশ্চিত করতে হবে পাখির নিরাপত্তা। পাখি শিকার বন্ধ, ডিম পাড়ার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি এবং নিয়মিত তদারকি জরুরি।


প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন-এর বরগুনা জেলা সমন্বয়কারী হাসানুর রহমান মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সংরক্ষণ থাকলে এটি হতে পারে দেশের একটি দৃষ্টান্তমূলক পাখির অভয়াশ্রম।


বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, পাখির বসার স্থানে কোনো স্থাপনা করা হবে না। কিছুটা দূরে বসার বেঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে দর্শনার্থীরা প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি না হয়। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি বলেন, চরটিকে অভয়াশ্রম ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, ২০২১ সালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ট্রলারযোগে চরটি চিহ্নিত করেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নামফলক স্থাপন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।


নদী, চর আর পাখির মিলিত এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো অনেকের অজানা। তবে সঠিক সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে ‘ঝোপখালী পাখির চর’ খুব শিগগিরই হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের নতুন এক প্রকৃতি-পর্যটনের ঠিকানা।

Leave Your Comments