জলকেলি উৎসবে মুখর কুয়াকাটা, নৃত্যে মুগ্ধ দর্শক

Date: 2026-04-18
news-banner

জনি আলমগীর, কুয়াকাটা থেকে-
সাগরকন্যা কুয়াকাটা-তে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব ঘিরে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেট মাঠে সৃষ্টি হয় মিলনমেলার আবহ।
উৎসব উপলক্ষে সাজানো নৌকায় পানি রেখে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নাচ-গান, উচ্ছ্বাস আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
রাখাইন মহা সাংগ্রাইন ১৩৮৮ বর্ষবরণ ও জলকেলি উদযাপন কমিটির আয়োজনে রঙিন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা পরিবেশন করেন ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। তাদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে রাখাইন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাখাইন অ্যামং তালুকদার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সকালে ধর্মীয় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, জলকেলি উৎসব তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন জোরদার করা হয়। প্রতি বছর এ আয়োজন পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর বার্তা বহন করে।
রাখাইন তরুণী মিয়াশু বলেন, “সাংগ্রাই আমাদের জীবনের নতুন সূচনার প্রতীক।” তরুণ উখিন জানান, “জলকেলির মাধ্যমে আমরা ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করি।” মংচোমেন বলেন, “এ উৎসব ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক।”
মহিপুর থানার ওসি মহব্বত খান বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন কুয়াকাটা-র পর্যটন শিল্পে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং দেশজুড়ে রাখাইন সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়াচ্ছে।


Leave Your Comments