যৌন হয়রানি রোধে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করবে ২ প্রতিষ্ঠান

Date: 2026-03-12
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
গণমাধ্যমে কর্মরত নারী সাংবাদিকদের কর্মস্থল নিরাপদ করতে এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। নারী সাংবাদিকদের আইনি ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং মনোবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সঙ্গে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (গড়ট) সই করেছে নারী সাংবাদিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ। বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কৌশলগত অংশীদারত্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এক নজরে অংশীদারত্বের লক্ষ্য:
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: কর্মক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
আইনি সহায়তা: হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের দ্রুত বিশেষজ্ঞ আইনি পরামর্শ প্রদান।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা: ভুক্তভোগীদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে মনোবৈজ্ঞানিক সহায়তা দেওয়া।
সুরক্ষা নির্দেশিকা: গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি গাইডলাইন চূড়ান্ত করা।
সমঝোতায় স্বাক্ষরকারীগণ
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন: ১. মালেকা বানু, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। ২. নাজমুল হোসেন, পরিচালক, মনোবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। ৩. আঙ্গুর নাহার মন্টি, সমন্বয়কারী, নারী সাংবাদিক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ।
বক্তাদের বিশেষ বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন-এর বাংলাদেশ প্রধান মো. আল মামুন বলেন, এই চুক্তি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি গণমাধ্যমে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সম্মিলিত অঙ্গীকার।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে লিঙ্গসমতা নীতি এবং হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় করতে তারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন। অন্যদিকে, মনোবিজ্ঞানী নাজমুল হোসেন গুরুত্বারোপ করেন যে, আইনি প্রতিকারের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নারী সাংবাদিক নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার মন্টি বলেন, এই চুক্তির ফলে মাঠ পর্যায়ের নারী সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হলে এখন থেকে দ্রুত বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সেবা পাবেন।
উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন, রিতা নাহার, আমিন আল রশীদ এবং শাহনাজ মুন্নীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মৌলি ইসলাম, জুম্মাতুল বিদা ও নওরিন আহমেদ মনীশা।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা নির্দেশিকা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দ্রুতই প্রকাশ করা হবে।


তথ্য- জাগোবিডি/বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস/সুমাইয়া শিমু

Leave Your Comments