ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এখন পর্যন্ত যে ক্ষতি

Date: 2026-03-14
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি রাডার ব্যবস্থা, ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালি জানায়, সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর পাঁচটি ট্যাংকার বা রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিমান সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবাসুএ অবস্থান করছিল এবং মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি এবং মেরামতের কাজ চলছে।
এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইউনাইটেড সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে ১ মার্চ সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে একজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়। আর গত শুক্রবার পশ্চিম ইরাকে একটি বোয়িং কেসি ১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। সেন্টকম জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেনি। দুই বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতেই পারে। আর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান উধহ ঈধরহব এই দুর্ঘটনাকে নিহতদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনাদলি এজেন্সি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ঙঢ়বৎধঃরড়হ ঊঢ়রপ ঋঁৎু অভিযানের প্রথম দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩.৮৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও সৌদি আরবে থাকা চারটিি এনটিপিওয়াই রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে। এছাড়া কাতারের আল উদায়দ এয়ার বাসে থাকা একটি এনইএফএস রাডার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১১টি এমকিউ ৯ রাডার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল গোলাবর্ষণে তিনটি এফ১৫ ইগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যদিও সেগুলোর ছয়জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামা অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরেও ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
১২ মার্চ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএস জেনারেলড আর ফোর্ড)ুএ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই নাবিক আহত হন। তবে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি যুদ্ধজনিত হামলার কারণে নয়; জাহাজটির লন্ড্রি অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং রণতরীটি এখনো সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে সংঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত ১,৩৪৮ জন নিহত এবং ১৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তথ্য-বিডিপ্রতিদিন/জাগোবিডি
বিডিফেস/সুমাইয়া শিমু

Leave Your Comments