হরমুজ প্রণালি নিয়ে পৃথক ঘোষনা; আবারও বন্ধ

Date: 2026-04-18
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ঘোষণা ও অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শুক্রবার বিকেলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। এই ঘোষণায় সাময়িক স্বস্তি তৈরি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই ভিন্ন চিত্র সামনে আসে।
এর কিছুক্ষণ পরই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানকে ধন্যবাদ জানান, তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করেন যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে—যতক্ষণ না তাদের শর্ত পূরণ হচ্ছে। এতে প্রণালি খোলা থাকার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
পরবর্তীতে ইউরোপীয় দেশগুলোও সক্রিয় হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা আন্তর্জাতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
রাতের দিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা সম্ভব হবে না।
এদিকে কিছু সময়ের জন্য কয়েকটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও শনিবার সকালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা প্রণালির ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে এবং যেকোনো জাহাজ চলাচলের জন্য তাদের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
এই ঘোষণার পরপরই দেখা যায়, বেশ কয়েকটি জাহাজ দিক পরিবর্তন করে নিজেদের যাত্রাপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে—হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন এখনো প্রশমিত হয়নি; বরং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।


তথ্য- বিবিসি
বিডিফেস/ মেহেদী হাসান

Leave Your Comments