অনলাইন
ডেস্ক । ঢাকা:
২০২৪
সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বঙ্গভবনের ভেতরে কাটানো সেই উত্তাল দিনগুলোর রোমহর্ষক
বর্ণনা দিলেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া
একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাকে অসাংবিধানিকভাবে অপসারণের একাধিক ষড়যন্ত্র
কীভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং ২২ অক্টোবরের সেই বিভীষিকাময় রাতে বঙ্গভবন ঘিরে আসলে কী ঘটেছিল।

রক্ত
ঝরুক, কিন্তু সংবিধান রক্ষা করব-
রাষ্ট্রপতি
বলেন, আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গেছে, তা সহ্য করার ক্ষমতা অন্য কারো ছিল কি না আমি জানি
না। আমাকে কতভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে! কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। আমি বলেছি,
আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে, তবুও আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব। আল্লাহর
ইচ্ছা আর আমার দৃঢ়তাই আমাকে অবিচল রেখেছে।
২২ অক্টোবরের
সেই ‘ভাড়াটে’ মব ও ব্ল্যাকমেইল-
২২ অক্টোবর
২০২৪-এর বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, “রাতারাতি গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন মঞ্চ ও ঐক্যের নামে একই টাইপের লোক সেদিন বঙ্গভবন
ঘেরাও করেছিল। তাদের অর্থের জোগান আসছিল কোথা থেকে-
একটি
বিশেষ ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একটি মেয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে
ভেতরে পড়ার নাটক করে। সে বারবার ক্যামেরাম্যানকে ডাকছিল ছবি তোলার জন্য, যাতে সেটা
দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা যায়। এগুলো ছিল নিছক ভাড়াটে অভিনয়।” তিনি আরও জানান, সেদিন ফ্লাইওভার
দিয়ে ভ্যান ও ঠেলাগাড়িতে করে ছিন্নমূল মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছিল বঙ্গভবন লুট করার উদ্দেশ্যে।

নেপথ্যে
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ফোন-
সেই
উত্তাল রাতে বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম রাত ১২টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে ফোন করেছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, “নাহিদ ফোন করে আমাকে বলেছিল- ওরা আমাদের লোক না। আমি প্রধান উপদেষ্টার
সাথে কথা বলেছি, আমরা ওদের সরানোর চেষ্টা করছি।’ এরপর রাত ২টা নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা
নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিএনপির
সমর্থন ও তারেক রহমানের প্রশংসা-
সংবিধান
রক্ষার লড়াইয়ে বিএনপির ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিলেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে
নিয়ে আমার কৌতূহল ছিল, কিন্তু আমি বুঝলাম তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও মার্জিত মানুষ। বিএনপি
স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তারা কোনো অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায় না।
প্রধান
বিচারপতিকে বসানোর ‘ব্যর্থ চক্রান্ত-
রাষ্ট্রপতি
এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ
থেকেও তাকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। একজন উপদেষ্টাকে পাঠিয়ে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে
আমার জায়গায় বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই বিচারপতি সাহসিকতার সাথে তা প্রত্যাখ্যান
করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির ওপরে কেউ নেই এবং তিনি অসাংবিধানিক
পথে ওই চেয়ারে বসবেন না।

সশস্ত্র
বাহিনীর ভূমিকা-
নিজের
মনোবল ধরে রাখার পেছনে তিন বাহিনী প্রধানের সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, বাহিনী প্রধানরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি
সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান; রাষ্ট্রপতির পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়। এই অবস্থানই মূলত
বড় ধরনের বিপর্যয় রুখে দিয়েছে।
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন/
কালেরকন্ঠ/বিডিফেস