মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত দেড় মাস ধরে
দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোক্তা
পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি
লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল
১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এই হিসাবে ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা,
পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দাম ১৯ এপ্রিল মধ্যরাত
থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানির দাম কিছুটা
কমানো হলেও মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে তা অপরিবর্তিত ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক
উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত—বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি সৃষ্টি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়ে,
যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সম্প্রতি
যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে
না। যদিও সরকারের দাবি, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটাই এই পরিস্থিতির
মূল কারণ। এদিকে, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে দেশের
বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে
বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার
সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করা হয়,
এবং সেই নীতিমালার আওতায়ই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more